Showing posts with label About Meditation. Show all posts
Showing posts with label About Meditation. Show all posts

Thursday, May 26, 2022

 মেডিটেশন বা ধ্যান কিভাবে শুরু করবেন?

মেডিটেশন হচ্ছে নিজের লক্ষ্যে পৌছানোর একটি অনুঘটক বা মাধ্যম।

আরে আপনার লক্ষ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এক নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।

অতিরিক্ত হিসেবে আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, মনের উন্নতি হবে, আপনি জ্ঞানী হবেন।

এবার আসা যাক কিভাবে শুরু করবেন।

প্রথমে একটি শক্ত বড় এবং সুন্দর ক্যালেন্ডার বানান। একা একা নিয়মিত মেডিটেশন করতে এটা দরকার।

দিনে দুইবার মেডিটেশন করবেন এবং ঐ ক্যালেন্ডারে দাগ দিবেন কাউন্ট ডাউন্ট পদ্ধতি।

এতে দেখবেন নিয়মিত করা হবে। অথবা রুটিন তৈরি করে চোখের সামনে লটকিয়ে রাখতে পারেন।

যেভাবে আপনার নিয়মিতভাবে মেডিটেশন করা হবে সেভাবে পদ্ধতি নিবেন।

এবার আসা যাক প্রক্রিয়া।

প্রক্রিয়াটা খুবই সহজ।

প্রথমে একটু নিরিবিলি স্থান নির্বাচন করুন। এবং চোখ বন্ধ করে নাক দিয়ে লম্বা দম দিন 7/8/9 বার দম নিন।

দম নিবেন জোরে ছাড়বেন একটু আস্তে যাতে হৃদপিন্ডের একটু চাপ পড়ে রক্ত আপনার শরীরের পৌছায়।

এবার নাক দিয়ে ধীরে ধীরে দম নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এক্ষেত্রে আপনি ঘুমালে যেমন দম নিন সেভাবে

দম নিবেন। আর এখানে অধিকাংশ লোকই ঘুমিয়ে পড়ে। এখানে ঘুমালে চলবে না। এ স্টেজে যত আপনি সজাগ

থাকবেন তত আপনার অবচেতন মন উন্মুক্ত হবে। আপনার দুরদৃষ্টি বাড়বে, আপনার সচেতনতা বাড়বে।

আপনার সৃজনশীলতা বাড়বে।

এরপর আপনি আপনার মতো করে মনে মনে আপনার আকাংখা বা কি করতে চান। কিভাবে চান তার কল্পনা করুন।

এরপর মেডিটেশনের শেষ পর্যায়ে যখন উঠবেন তার আগে নাক দিয়ে 2/3 বার লম্বা দম নিন।

দেখবেন আপনি পুর্নো সতেজ হয়ে উঠেছেন।

ধন্যবাদ।

মেডিটেশন বা ধ্যান করা কিভাবে শুরু করব? প্রতিদিন কতক্ষণ মেডিটেশন বা ধ্যান করা উচিত?

Wednesday, March 24, 2021

আমাদের প্রতিটি দিনই শুরু হয় ব্যস্ততা দিয়ে। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যস্ততার চাদর মুড়িয়ে সময় পার করি আমরা। যদি প্রতিদিনের শুরুটা একটু অন্যরকমভাবে মেডিটেশন কিংবা ধ্যান করে শুরু হয়, কেমন হয় বলুন তো?

অনেকে হয়তো ভাববেন যে, এতো সময় কোথায়? আমাদের আসল সমস্যা এটিই যে উপকারিতা বিচার না করে আমরা বেশ অজুহাত দেখাতেই অধিক পছন্দ করি। আগে চলুন মেডিটেশনের উপকারিতা জেনে নেই, তারপর না হয় সিদ্ধান্ত নেবেন..

স্ট্রেস কমায়
নিত্যদিনের স্ট্রেস কিংবা ধকল কমাতে মেডিটেশনের জুড়ি নেই।

 প্রতিদিন ভোরে আপনি চাইলেই এটির অনুশীলন করতে পারেন, সেক্ষেত্রে সারাদিন চনমনে মেজাজে কাটবে আপনার। কিংবা ঘুমের আগে কিছুটা সময় ধ্যানের অনুশীলন করতে পারেন। দেখবেন খুব সতেজ একটি ঘুম হবে আপনার এবং পরবর্তী দিন আপনি দ্বিগুণ কর্মশক্তি নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

মনোযোগ বাড়ায়
আপনি কর্মজীবী মানুষ কিংবা শিক্ষার্থী যা-ই হোন না কেন, মেডিটেশনের প্রাত্যহিক অনুশীলন আপনার কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। যেকোন কঠিন ব্যাপার খুব সহজেই বুঝতে সমর্থ হবেন এবং নিজেকে অন্য সবার চাইতে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

সুস্থ জীবনযাপন সুনিশ্চিত করে
মেডিটেশন কিংবা ধ্যানের মাধ্যমে আপনি সুস্থ ও সুনিশ্চিত জীবনযাপন অর্জন করতে পারবেন। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এটি অনুশীলন করলে আপনি নিজের জীবনে একটি লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখতে পাবেন। দিনের সকল কাজ পরিকল্পিত রুটিনের মাধ্যমেই সম্পাদন করতে পারবেন।

আত্ম-সচেতনতা বাড়ায়
মেডিটেশন কিংবা ধ্যানের মাধ্যমে আপনি নিজের ব্যাপারে অনেকটা সচেতন হয়ে উঠবেন। কোন ব্যাপারে আপনি আগ্রহী, আপনার লক্ষ্য কী, সেটি অর্জনে আপনার বাধা কোনটি, আপনি কী ভালোবাসেন ও কী ঘৃণা করেন; এসব ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে পারবেন।

সুখ সঞ্চার করে
একটু আগেই বলা হলো যে, মেডিটেশনের মাধ্যমে আপনি আত্ম-সচেতনতা অর্জন করবেন। ঠিক তেমনি এর মাধ্যমে আপনি কোন বিষয়ে সুখী হোন এবং কোন বিষয়ে মনঃক্ষুণ্ন হন সে ব্যাপারেও একটি সংকেত পেয়ে যান। আশেপাশের যেকোন বিষয় আপনি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করতে পারবেন। মেডিটেশনে পারষ্পরিক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যও বাড়ে।

বয়স ধরে রাখে
নিয়মিত মেডিটেশন এবং ব্রিদিং এক্সারসাইজ করলে আপনার ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। এ কারণে আপনার ত্বক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং বয়সের ছাপ রোধ করে। আপনি অনেক দিন যাবত সুন্দর ত্বকের অধিকারী হয়ে থাকতে পারবেন শুধুমাত্র নিয়মিত মেডিটেশন এক্সারসাইজের মাধ্যমেই।

মেডিটেশন কেন করবেন?

Sunday, March 21, 2021

 ধ্যান একটি অনুভুতি!

ধ্যান করার জন্য হাজার রকমের নিয়ম আছে, আর হাজার মার্গ(পথ) দিয়ে লোকজন ধ্যান উপলব্ধি করতে পারবে। নিশ্চল ধ্যান বা ইয়োগা পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য হাজার রকমের রাস্তা আছে, আর পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের রাস্তায় চলে লোকজন সেই মুহূর্তকে উপলব্ধি করছে, যাকে আমরা বলে থাকি মন স্থির হয়ে যাওয়া।
একটি ছোট প্রক্রিয়ার কথা আমি আপনাকে বলবো: যা অনেক সহজ সরল আপনি করতে পারবেন, আর আপনার নিশ্চল(স্থির) মনের ঝলক এবং ছায়ার দেখা শুরু হয়ে যাবে; তখন আপনার জীবন রুপান্তর হওয়া শুরু হয়ে যাবে।
একটি নতুন মানুষের জন্ম হবে আপনার ভিতরে, পুরাতন মানুষ ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে থাকবে, আর একটি নতুন চেতনা, একটি নতুন কেন্দ্র, দেখার নতুন একটি দৃষ্টি, বাঁচার নতুন একটি প্রক্রিয়া; আপনার হওয়ার একটি নতুন ব্যবস্থা, আপনার ভিতর জন্ম হয়ে যাবে।
যেমন হঠাৎ অন্ধ চোখে দেখতে পায়, বা যেমন হঠাৎ বধির(শ্রবণশক্তিহীন) কানে শুনতে পায়, বা যেমন হঠাৎ করে কোন মৃত ব্যক্তি পুনরায় জীবিত হয়ে যায়। ঠিক ধ্যানের অনুভব থেকে এমনি ব্যাপক ক্রান্তিকারী(বিপ্লবের) ঘটনা চেতনার ভিতর ঘটে যায়।
যদি আপনি এমন কোন চিত্র দেখে থাকেন যখন বাচ্চা মায়ের গর্ভে থাকে, মায়ের পেটে বাচ্চা যে অবস্থায় থাকে গর্ভে; সেই অবস্থাকে মনোবিজ্ঞান এবং ধ্যান বা ইয়োগা গভীর খোঁজ বলে: যখন মায়ের গর্ভে বাচ্চা থাকে যে আসনে, সেই সময় বাচ্চার কাছে ন্যূনতম মন থাকে, না থাকার মত, এটাও বলতে পারি তখন মন থাকেই না।
আর বাচ্চার চেতনা মস্তিষ্কের ক্যানভাসে থাকে না, যখন মায়ের পেটে থাকে, আর না বাচ্চার চেতনা হৃদয়ে থাকে। হয়তবা আপনার জানা নাও থাকতে পারে, মায়ের পেটে যখন বাচ্চা থাকে তখন বাচ্চার হৃদয় স্পন্দন করে না; নয় মাস বাচ্চার হৃদয় স্পন্দন ছাড়া থাকে।
এর জন্য আরো একটি বিষয় মনে রাখবেন, হৃদয়ের স্পন্দনের সাথে জীবনের কোন সম্পর্ক নেই, কারণ মায়ের গর্ভে বাচ্চা নয় মাস হৃদয়ের স্পন্দন ছাড়া জীবিত থাকে। জীবন আরো গভীর বিষয়! চেতনা যখন বোধগম্য থাকে তখন হৃদয় কেন্দ্রীক থাকে, আর চেতনা যখন বিচার বিশ্লেষণ করে তখন মস্তিষ্ক কেন্দ্রীক থাকে।
কিন্তু মস্তিষ্ক অনেক পরে বিকশিত হয়, আর হৃদয় নয় মাস পরে স্পন্দন(ধক-ধক) করে। তার আগে চেতনার একটি কেন্দ্র থাকে সেটা হলো নাভি, বাচ্চা মায়ের নাভির সাথে জুড়ে(একত্রিত) থাকে। জীবনের প্রথম অনুভব বাচ্চার নাভির উপর হয়। যারা মনের ওপারে যেতে চায়, তাদেরকে হৃদয় এবং মস্তিষ্ক দুটো থেকে নেমে এসে নাভির কাছে পুনরায় ফিরে আসতে হয়।
যদি আপনি পুনরায় আপনার চেতনা নাভির কাছে অনুভব করতে পারেন, তাহলে আপনার মন তাৎক্ষণিক স্থির হয়ে যাবে। এই ধ্যানের প্রক্রিয়াকে, যাকে আমি নিশ্চল ধ্যান ইয়োগা এর একটি ব্যবস্থা বলছি।
দুইটি বিষয় মনে রাখা জরুরী। যেমন সুফি ফকিরদের যদি আপনি দেখে থাকেন প্রার্থনা করতে,বা মুসলমানদের যদি আপনি নামায পড়তে দেখে থাকেন; তাহলে তারা যেভাবে হাটু ভাজ করে বসে, ঠিক সেইভাবে হাটু ভাজ করে বসে যান।
বাচ্চা মায়ের গর্ভে ঠিক তেমনিভাবে হাটু ভাজ করে থাকে। চোখ বন্ধ করে শরীরকে হালকা ভাবে ছেড়ে দেন আর শ্বাস-প্রশ্বাসকে সম্পূর্ণ শিথিল ভাবে ছেড়ে দেন, কারণ শ্বাস-প্রশ্বাস যত ধীর গতিতে আসা যাওয়া করবে তত ভালো।
শ্বাস-প্রশ্বাস যেন শান্ত হয়ে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাসকে জোর করে দাবিয়ে শান্ত করা যাবে না; যদি আপনি শ্বাস-প্রশ্বাস আটকাতে চান তাহলে দ্রুত গতিতে শ্বাস-প্রশ্বাস চলা শুরু হয়ে যাবে, শ্বাস-প্রশ্বাস আটকাবেন না শুধু হালকা ভাবে ছেড়ে দেন।
আর চোখ বন্ধ করে আপনার চেতনাকে নাভির কাছে নিয়ে আসুন। মস্তিষ্ক থেকে নামিয়ে হৃদয়ের কাছে নিয়ে আসুন, আর হৃদয় থেকে নামিয়ে নাভির কাছে চেতনাকে নিয়ে আসুন!
শ্বাস-প্রশ্বাসের হালকা কম্পন পেটকে উপর-নিচ করবে। আপনি চোখ বন্ধ করে আপনার ধ্যানকে সেখানে নিয়ে আসুন যেখানে নাভি কম্পিত হচ্ছে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ধাক্কার কারণে পেট উপর-নিচ হতে থাকবে, চোখ বন্ধ করে ধ্যানকে সেখানে নিয়ে আসুন আর শরীরকে হালকা ভাবে ছাড়তে থাকুন কিছুক্ষণের মধ্যে শরীর আপনার সামনের দিকে ঝুকে যাবে আর মাথা মাটির সাথে লেগে যাবে।
যখন আপনার মাথা মাটির সাথে লেগে যাবে তখন আপনি ঠিক সেই অবস্থায় এসে পড়েছেন যে অবস্থায় বাচ্চা মায়ের পেটে থাকে। শান্ত হওয়ার জন্য এর থেকে বেশি দামি আসন জগতে আর কোথাও নেই।
আসন এমন হয়ে যায় যেমন বাচ্চা গর্ভে থাকে, আর আপনার ধ্যান যেন নাভির কাছে চলে যায়। বাচ্চার ধ্যান এবং চেতনা নাভির কাছে থাকে। ঠিক তেমনি আপনার ধ্যান যেন নাভির কাছে চলে যায়।
অনেকবার ধ্যান নষ্ট হয়ে যাবে, কোথাও থেকে কোন আওয়াজ আসলে ধ্যান নষ্ট হয়ে যাবে, যদি বাহিরে কোথাও কিছু না হয় তাহলে ভিতরে কোন বিচার এসে উপস্থিত হবে আর ধ্যান সরে যাবে; তখন তার সাথে লড়াই করবেন না।
যদি ধ্যান সরে যায় তাহলে কোন চিন্তা করবেন না, যখনি খেয়াল আসবে যে ধ্যান সরে গেছে তখন পুনরায় ধ্যানকে নাভির কাছে নিয়ে আসবেন। আর চল্লিশ মিনিট অন্ততপক্ষে এর থেকে বেশি যে কোন লোক থাকতে পারবে।
ঠিক মায়ের পেটে বাচ্চা যেমন পরে থাকে, সেভাবে পরে থাকবেন। বেশি সম্ভাবনা এটা যে- আট থেকে দশ দিনের প্রয়োগে আপনার ভিতরে গভীর নিশ্চল অনুভব হওয়া শুরু হয়ে যাবে। ঠিক আপনি বাচ্চার মত সরল চেতনায় প্রবেশ করবেন। তখন মন স্থির হয়ে গেছে বুঝতে পারবেন, যতক্ষণ মন নাভির কাছে থাকবে ততক্ষণ মন স্থির থাকবে। আর যখন নাভির কাছে থাকা সহজ হয়ে যাবে তখন মন সম্পূর্ণভাবে স্থির হয়ে যাবে।
যে ব্যক্তি যত বেশি তার চেতনাকে নিয়ে নাভির কাছে যাবে, ততই বর্তমানের খুব কাছাকাছি থাকবে। যেমন বাচ্চা নাভির সাথে জুড়ে থাকে মায়ের সাথে, ঠিক তেমনি একটি অজানা নাভির সঙ্গে আমরা অস্তিত্বের সাথে জুড়ে রয়েছি। নাভি হলো অস্তিত্বের দরজা।
যেমন আমরা মায়ের সাথে জুড়ে থাকি এই ভৌতিক শরীরের সাথে, ঠিক এমনিভাবে এই বড় জগৎ, এই প্রকৃতি বা এই অস্তিত্বের গর্ভের সাথে আমরা নাভির মাধ্যমে জুড়ে থাকি। যখনি আপনি নাভির নিকট আপনার চেতনাকে নিয়ে আসেন তখন মন নিশ্চল হয়ে যায়।
যীশু(আঃ) এর একটি অদ্ভুত বচন আছে, যদি ঈসায়ীরা তার অর্থ বুঝতে পারত। যীশু(আঃ) বলেছিল: তুমি তখনি আমার প্রভুর স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে যখন তুমি ছোট বাচ্চার মত হয়ে যাবে।
কিন্তু বাহ্যিক অর্থে আমরা বুঝেছি ছোট বাচ্চার মত সরল হয়ে যাওয়াকে। কিন্তু গভীর বিজ্ঞান মতে এর অর্থ হলো: আমরা বাচ্চার সেই অন্তিক(নিকটস্হ) অবস্থায় পৌঁছিয়ে যাব, যখন বাচ্চা থাকে না শুধু মা থাকে, আর বাচ্চা মায়ের সাহায্যে বেঁচে থাকে, তখন বাচ্চার নিজস্ব কোন হৃদয়ের স্পন্দন(ধক-ধক) থাকে না, আর না নিজের কোন মস্তিষ্ক থাকে। বাচ্চা সম্পূর্ণ সমর্পণ হয়ে মায়ের অস্তিত্বের অঙ্গ হয়ে থাকে। ঠিক এমনি ঘটনা নিশ্চল ধ্যান বা ইয়োগা অবস্থায় ঘটে, আপনি সমাপ্ত হয়ে যান আর পরমাত্মা সাথে একত্রিত হয়ে থাকেন; তখন পরমাত্মার মধ্যে আপনি বেঁচে থাকেন।
আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে” "আমার কথা গুলো এত প্রেম ও শান্তি সঙ্গে পড়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি, কেননা এই ধরনের কথা বার্তা প্রেমও শান্তির সঙ্গে পড়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এবং শেষে সকলের ভেতরে পরমাত্মাকে ভক্তিও শ্রদ্ধা করছি, আমার ভক্তি ও শ্রদ্ধা গ্রহণ করুন দয়া করে!
"Translation" By monju miah" "Respect" "By" Osho(Ah)”

ধ্যান একটি অনুভুতি!

Monday, March 15, 2021

 পর্ণোগ্রাফি কিভাবে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তিকে দূর্বল করে?


স্নায়ুবিজ্ঞান (Neuroscience) এখন স্বীকার করে যে, মানুষের মস্তিষ্ক অভিযোজন ক্ষমতা সম্পন্ন। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতা লাভের মধ্যদিয়ে মস্তিষ্কে পরিবর্তন ঘটে এবং আমরা যা দেখি, শুনি বা জানি, তার সবকিছুর সাথেই মস্তিষ্কের সংযোগ গড়ে ওঠে। দর্শন ক্লাসের আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে নতুন কোনো শহরের পথঘাট চেনা, এমনকি আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থেকে কোনো গান শোনা কিংবা টিভি দেখা — আমাদের প্রতিটি কাজের সাথেই মস্তিষ্কের তাৎক্ষনিক সংযোগ গড়ে ওঠে এবং মানুষ হিসেবে আমরা কে, কেমন, এই সংযোগগুলোই সেটা নির্ধারণ করে দেয়। পর্নোগ্রাফী দেখা একটি নীরব অথচ ভয়ঙ্কর সমস্যা যা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে নারীদের চাইতে পুরুষরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এই বিষয়টির ক্ষতিকারক দিক সংক্রান্ত অধিকাংশ নিবন্ধগুলোতে বিষয়টি সম্পর্কে সাধারণত মনস্তাত্ত্বিক এবং/অথবা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করা হয়। তবে বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে স্নায়ুবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্নোগ্রাফী দেখার ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সম্পর্কে আলোপাত করা হবে।

প্রচলিত যে মডেলটির (model) মাধ্যমে মানুষের শেখা এবং মনে রাখার প্রক্রিয়াটিকে ব্যাখ্যা করা হয়, সেই মডেলটির ভিত্তি হলো সিন্যাপটিক প্লাসটিসিটি (synaptic plasticity)। সিন্যাপটিক প্লাসটিসিটি হলো মস্তিষ্কের সেই ক্ষমতা যার মাধ্যমে অভিজ্ঞতায় সাড়া দিতে মস্তিষ্ক তার নিউরনসমূহের (মস্তিষ্ক কোষ) মধ্যকার সংযোগগুলোর শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কি পরিমাণ এবং কোন ধরণের স্নায়বিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এবং সেইসাথে কি পরিমাণ নিউরোট্রান্সমিটারের (neurotransmitter – আনবিক গঠন সম্পন্ন স্নায়বিক সংবাহক) নির্গমন ঘটবে, তা নিয়ন্ত্রণ করাও এই ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। অধিকাংশ মানুষ ডোপামিন সম্পর্কে যা কিছু জানে তা বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তি যেমন, মুহাম্মাদ আলি বা মাইকেল জে. ফক্সের পারকিন্‌সন্‌ (Parkinson) রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থেকে। শরীরে ডোপামিনের কার্যকারিতায় ত্রুটি দেখা দিলে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়।

মস্তিষ্কের একটি অত্যাবশ্যক নিউরোট্রান্সমিটার হলো ডোপামিন (dopamine)। এর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি সচেতন অঙ্গসঞ্চালন, অনুপ্রেরণা দান, প্রতিদান দেওয়া, শাস্তি দেওয়া এবং শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। শিশুদের এডিএইচডি (ADHD – Attention Deficit-Hyperactivity Disorder), বার্ধক্যজনিত স্মৃতিশক্তি হ্রাস (cognitive decline) এবং বিষণ্ণতার (depression) ক্ষেত্রেও ডোপামিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

আনন্দ অনুভব, প্রতিদান, শিক্ষণ প্রক্রিয়া ইত্যাদিতে ডোপামিনের ভূমিকা অবিচ্ছেদ্য। কোকেইনের মতো ড্রাগগুলোর কার্যকারিতা ডোপামিনারজিক সিস্টেম (Dopaminergic System) কেন্দ্রিক। এই ড্রাগগুলোর কার্যকারিতার ফলে প্রচুর পরিমাণে ডোপামিনের নিঃসরণ ঘটে। ফলে শরীরে “উচ্চমাত্রার শক্তি বা আনন্দ অনুভূতি” সৃষ্টি হয় যা ক্রমেই আসক্তিতে পরিণত হয়। একাধিক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ডোপামিন আনন্দের আবহ তৈরি করে, নয়তো প্রত্যক্ষ আনন্দ দানে ভূমিকা রাখে। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে, চরম আনন্দ লাভের মুহূর্তে, নয়তো আনন্দ লাভের পরে, ডোপামিনের নিঃসরণ ঘটে। এই নিঃসরণের সময়, ডোপামিন শারীরিক ক্রিয়ার সাথে মস্তিষ্কের নতুন সংযোগগুলোকে আরও বেশি শক্তিশালী (strengthen) এবং দৃঢ় (reinforce) করে যা ব্যক্তিকে পুরনায় ওই আনন্দ লাভের জন্য একই কাজ করতে উৎসাহ যোগাতে থাকে।

পর্নোগ্রাফীর সাথে এর সম্পর্কটা কোথায়? পর্দায় যৌন ক্রিয়াকলাপের দৃশ্য দেখলে যৌন উত্তেজনা তৈরি হয়, যা ডোপামিনারজিক সিস্টেমকে সক্রিয় করে তোলে। কোকেইনের মতো ড্রাগগুলো ঠিক এই কাজটিই করে থাকে। পর্দায় যৌন ক্রিয়াকলাপের দৃশ্য দেখার ফলে মস্তিকে নতুনভাবে তৈরি হওয়া সংযোগগুলো প্রচুর পরিমাণে নিঃসৃত ডোপামিনের দ্বারা আরও বেশি শক্তিশালী হয়। ফলে পর্দায় দেখা দৃশ্যগুলো ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিপটে না-গিয়ে — যেক্ষেত্রে দৃশ্যগুলো পর্দা বন্ধ হওয়ার পর মন থেকে মুছে যেতো — ডোপামিনের দৃঢ়ীকরণ (reinforcement) প্রক্রিয়ার কারণে স্থায়ী স্মৃতিপটে প্রবেশ করে। এখানে দৃশ্যগুলো দর্শকের মনে রিপ্লেই মোডে (replay mode – বারবার চোখে ভাসতে থাকে) দৃঢ়ভাবে গেঁথে যায়। এক্ষেত্রে সমস্যার কথা হলো, কোনো কিছুকে যতবেশি স্মরণ করা হবে, মস্তিষ্কে তা ততবেশি স্থায়ী রূপ লাভ করতে থাকবে। স্কুলের ওই দিনগুলোর কথা মনে করে দেখুন — পরীক্ষার পড়া মুখস্ত করতে গিয়ে একটা বিষয় বারবার পুনরাবৃত্তির পর তা মাথায় গেঁথে যেতো!

পর্নোগ্রাফী হলো অলীক কল্পনা (fantasy)। প্রতিটি নতুন দৃশ্যে একজন নতুন নারীকে দেখে দর্শকের ভ্রম জাগে যেন প্রতিবার সে নতুন একজন নারীর সাথে সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে। পর্নোগ্রাফীর “তারকা” অভিনেত্রীরা ছবিতে পুরুষদের কাছে নিজেদেরকে মর্যাদাহীন এবং অবমাননাকর যৌনকর্মের শিকারে পরিণত করে। এসব যৌন আচরণ মানসিকভাবে সুস্থ অধিকাংশ মানুষের কাছে সম্পূর্ণরূপে অশ্লীল, জঘন্য। পর্নোগ্রাফীর চিত্রনাট্যের কাজই হলো দুএকটা পরিচিত এবং স্বাভাবিকভাবে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী আচরণের মাঝে এমন কিছু যৌন আচরণকে ঢুকিয়ে দেওয়া যেগুলো যৌনভাবে সুখকর নয়। আর এভাবেই দর্শক নতুন নতুন যৌন আচরণের সাথে পরিচিত হয়ে থাকে। পর্দা থেকে অবাস্তব কল্পনার পাশাপাশি এক ধরনের তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (electromagnetic wave) বিচ্ছুরিত হয় যা মস্তিষ্কে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। ফলে ডোপামিনের নিঃসরণ ঘটে। পরিণতিতে, এক ধরনের বাস্তব অনুভূতির তৈরি হয় ঠিকই, তবে যে আনন্দ এবং তৃপ্তিবোধ তৈরি হয়, তা নিজেকে ধোকা দেওয়া ছাড়া কিছু নয়। ডোপামিন নতুন করে পাওয়া যৌনতৃপ্তি সাথে সাথে মস্তিষ্কের সংযোগসমূহকে শক্তিশালী করে। ফলে যা ঘটে তা হলো, ব্যক্তি তখন তার স্ত্রীকে নিজের অবচেতন মনে জমে থাকা কল্পিত যৌন আচরণে লিপ্ত হওয়ার আহ্বান করে।

মস্তিষ্কে সংঘটিত ঘটনা প্রবাহ খুবই যৌগিক আবার সরলও। পর্নোগ্রাফী দেখার ফলে সিন্যাপটিক প্লাসটিসিটি মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ তৈরি করে। ফলে নতুন করে লাভ করা স্মৃতিগুলো সংরক্ষিত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা যেহেতু যৌন উত্তেজনার সাথে সম্পৃক্ত, তাই ডোপামিন নিঃসরণের মাধ্যমে নতুন সৃষ্ট সংযোগগুলো বহুগুণ বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে এবং পর্দায় দেখা দৃশ্যগুলো স্থায়ী স্মৃতিপটে সংরক্ষিত হওয়ার ফলে দুই ধরণের ঘটনা ঘটে :

১) কোকেইন মস্তিষ্কের যে গঠনতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে, পর্নোগ্রাফীও ঠিক সেই গঠনতন্ত্রকেই উদ্দীপ্ত করে। ফলে আসক্তির জন্ম হয়।

২) পুরুষ প্রায়ই তার স্ত্রীর সাথে এসব দৃশ্যের পুনর্মঞ্চায়ন করতে চায় যার অনিবার্য পরিণাম হতাশা। এই পুনর্মঞ্চায়নের প্রত্যাশা পূরণ হবার নয়। কারণ একাধিক নতুন নতুন নারীর পরিবর্তে স্ত্রী শুধু একজন। আরও ভয়ানক বিষয় হলো, এই একজন নারীর যৌন বাচনভঙ্গি, আচরণ, শারীরিক আবেদন ইত্যাদি পুরুষের মনে জমে থাকা ওইসব নতুন নতুন নারীর সাথে কখনোই মিলবে না। হয়তো প্রথম প্রথম দুএকবার পুনর্মঞ্চায়ন বেশ উত্তেজনাকর এবং আনন্দঘন হতে পারে। তবে শীঘ্রই বাস্তবতা এসে হানা দেবে এবং যখন আনন্দ পাওয়া যাবে না, ডোপামিনের নিঃসরণও তখন বন্ধ হয়ে যাবে।

দুঃখজনক হলো, ঘটনার এখানেই শেষ নয়। অবাস্তব এবং কাল্পনা নির্ভর প্রত্যাশার কারণে বাস্তবে যখন হতাশার সৃষ্টি হবে, মস্তিষ্ক তখন ডোপামিনের নিঃসরণ শুধু বন্ধই করবে না; বাস্তবিক অর্থে, এই নিঃসরণ স্তর তখন সর্বনিম্ন স্তরেরও নীচে নেমে গিয়ে বিষণ্ণতার স্তরে গিয়ে পৌঁছবে। ফলে দাম্পত্য জীবনে হতাশা, অতৃপ্তি এবং অশান্তির জন্ম হবে। কারণ স্ত্রীকে সে “যেভাবে প্রত্যাশা করে, সেভাবে পায় না।” অনেক নারী নিজেদেরকে আরও বেশি আবেদনময়ী করার চেষ্টা করা সত্ত্বেও, এমনকি স্বামীদের মনের মতো করে আত্মমর্যাদাহীন, বিকৃতরুচির যৌনকর্মের জন্য নিজেদেরকে স্বামীদের হাতে তুলে দিলেও, পর্নোগ্রাফীতে আসক্ত স্বামীরা খুব সামান্য সময়ের জন্যই আনন্দ লাভ করবে এবং অল্প সময়েই আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। ফলে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও স্ত্রী নিজেকে অনাকর্ষণীয় এবং আবেগিক দিক থেকে পরিত্যক্তা মনে করবে। অথচ সে জানবেও না যে, পর্নোগ্রাফীর ডোপামিনের সাথে সে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

এই সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মস্তিষ্ক একটি সামগ্রিক সত্ত্বার মতো কাজ করে; এর কার্যকারিতার পরিধি হলো সর্বব্যাপী। ফলে মস্তিষ্কের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরিবর্তন হলে অন্যান্য অংশও প্রভাবিত হয়। পর্নোগ্রাফী দেখার মাধ্যমে আক্ষরিক অর্থেই পুরো মস্তিষ্কের সকল স্নায়বিক সংযোগগুলোর পুনর্বিন্যাস ঘটে। ফলে মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশ এবং তাদের কর্মদক্ষতার উপর কেমন প্রভাব পড়ে, তা গবেষণার ভিন্ন একটি ক্ষেত্র যা গভীর মনোযোগের দাবি রাখে।

স্নায়ুবিজ্ঞান পর্নোগ্রাফীতে আসক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বেশ পীড়াদায়ক চিত্র তুলে ধরলেও, এটি পুরোপুরি দুঃসংবাদ নয়। যদিও পর্নোগ্রাফী এবং কোকেইন মস্তিষ্কের একই গঠনতন্ত্রকে আক্রমণ করে, তথাপি দুটির পরিণতি পুরোপুরি এক নয়। মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট গঠনতন্ত্রকে বিষমুক্ত করার জন্য, কোকেইনে আসক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই একটি সুশৃঙ্খল এবং ধারাবাহিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অন্যথায়, তার জীবনই ঝুঁকিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে, অনেক মানুষ যারা পর্নোগ্রাফী দেখার বাস্তব এবং সুস্পষ্ট ক্ষতির দিক সম্পর্কে জেনে গেছে, তারা কোনো রকম নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের শিকার না হয়েই, তাৎক্ষনিকভাবে পর্নোগ্রাফী দেখা বাদ দিতে পারে। এজন্য প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে এবং নিজেকে নানা রকম কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখতে হবে। প্রথম প্রথম অতীতের দেখা পর্নোগ্রাফীর মনোযোগ বিনষ্টকারী দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসতে থাকবে যা পর্নোগ্রাফী পরিত্যাগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির ইচ্ছা এবং উদ্যমের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। তবে সুখের কথা হলো, পর্নোগ্রাফী দেখার কারণে মস্তিস্কের স্নায়বিক সংযোগগুলোর যেভাবে পুনর্বিন্যাস ঘটেছিল, সেই পুনর্বিন্যাস ঘটানো আবারও সম্ভব। মস্তিষ্ক খুবই কর্মদক্ষ একটি অঙ্গ যা অব্যবহৃত সংযোগগুলো থেকে মুক্ত হতে পারে। ব্যক্তি যতই পর্নোগ্রাফীর সংযোগগুলোকে পুনরুদ্দীপ্ত না-করে থাকবে, মস্তিষ্কের পক্ষে ওইসব সংযোগগুলো পরিত্যাগ করার সম্ভাবনাও তত বেশি। আবার পূর্বের অভিজ্ঞতায় জড়ালে এবং মস্তিষ্ককে যৌন আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিষয়ে ব্যস্ত রাখলে, অনিবার্যভাবেই তা অন্যান্য সংযোগগুলোকে পুনরুদ্দীপ্ত করবে। কর্ম সম্পাদনের জন্য মস্তিষ্কের শুধু সময় এবং পছন্দ প্রয়োজন। ব্যক্তি তার মস্তিষ্কে যে বিষয়টি বারবার সক্রিয় করবে, মস্তিষ্ক সেটিকেই তার পছন্দ হিসেবে গ্রহণ করবে।

Source:

পর্ণোগ্রাফি কিভাবে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তিকে দূর্বল করে?

Wednesday, March 28, 2018

History of Meditation

আসসালামু আলাইকুম। প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, এই লেখাটি সম্পূর্ণ ক্রিয়েটিভ মেডিটেশন সাইট থেকে কপি করা তাই আমিো হুবুহু দিয়ে দিলাম। কিন্তু আমি নিজে মেডিটেশন জানি এবঙ নিয়মিত করি। সময়ের অভাবে লিখতে পারি না। দয়া করে ক্ষমা সুন্দরদৃষ্টিতে দেখবেন।

মেডিটেশনের ইতিহাস

নতুন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি
নতুন বিষয়টির নাম হচ্ছে মেডিটেশন
নাম থেকেই মোটামুটিভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, মনের সাথে সংযোগ আছে এমন একটি বিষয় আসলে শুধু মনের সাথেই নয় দেহের সাথেও মেডিটেশনের রয়েছে বিশাল এক সম্পর্ক

আমরা যদি হাজার হাজার বছর আগে ফিরে যাই, তখন দেখব যে মানুষ বর্বর ছিল কারণ মানুষ জানত না যে, কীভাবে মনের শক্তিকে নিজের উন্নতির জন্য বা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হয়

মানুষ যখন ধীরে ধীরে সভ্যতার দিকে এগোতে লাগল, তখন মনের শক্তিকে ধীরে ধীরে ব্যবহার করতে শিখল এভাবেই একদিন মানুষ নিজেকে নিয়ে চিন-া করতে লাগল, নিজেকে বোঝার চেষ্টা করতে লাগলএকদিন বোধগম্য হলো যে আমাকে নিশ্চয় কেউ সৃষ্টি  করেছে, তা না হলে আমি এই পৃথিবীতে এলাম কী করে

সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায় এক পর্যায় এসে মানুষ যাদের প্রকৃতিতে শক্তিশালী মনে করত তাদেরকেই স্রষ্টা বা দেবতা মনে করতে লাগল এবং তাদের জন্য পূজা-অর্চনা করত সূর্য, চন্দ্র, আগুন, মাটি, বাতাস এদের কে দেবতার রূপে দেখা হত কিন’ পরবর্তীতে মানুষ আরো চিন-া করে দেখল যে সূর্য, চন্দ্র এরা আসলে স্রষ্টা নন কারণ এদেরকেও তো কোনো অদৃশ্য শক্তি সৃষ্টি করেছে সেই অদৃশ্য শক্তিকে খুঁজতে গিয়েই ধ্যানের উৎপত্তি হল এবং স্রষ্টার অদৃশ্য রূপ সম্পর্কে ধারণা এল স্রষ্টাকে খোঁজার পদ্ধতিই হলো ধ্যান বা মেডিটেশন

মানুষ যত বেশি সভ্যতার দিকে এগোতে লাগল, মানুষের মনে তত বেশি প্রশ্ন দেখা দিতে লাগল এভাবে একদিন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানের আর্বিভাব হলো জ্ঞান-বিজ্ঞান-এর মধ্য দিয়ে মানুষ আলোর দিকে এগোতে লাগল

ধ্যান বা মেডিটেশনের সাথে বিশ্বাস-এর বিশাল এক সম্পর্ক রয়েছে স্রষ্টা আছে এই বিশ্বাস থেকেই মেডিটেশন-এর উৎপত্তি বিজ্ঞানের আর্বিভাব ধ্যানের পরিধিকে আরও বাড়িয়ে দিল যখন একজন মানুষ ধ্যানের মধ্য দিয়ে স্রষ্টাকে খুঁজতে থাকে, তখন ঐ ব্যাক্তির শরীর ও মনের মধ্যে কি রকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয় বিজ্ঞান তা খুঁজতে লাগল বিজ্ঞান দেখল যে ধ্যানস’ বা মেডিটেশন অবস’ায় মানুষের মধ্যে এক প্রকার শক্তি তৈরি হয় আরও বুঝতে পারা গেল যে, এই শক্তি মানুষের জীবন চলার পথে ব্যবহার করে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে অনেক এগিয়ে নেওয়া যায় শারীরিক, মানসিক, পড়াশোনা, জ্ঞানচ্চর্চা, জাগতিক চাওয়া-পাওয়া, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড এরকম বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করে কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন সম্ভব বিজ্ঞানের এই চিন-াধারা থেকেই আধুনিক মেডিটেশন বা ধ্যানের উৎপত্তি

যুগে যুগে মানুষ ধ্যানের চর্চা করে আসছে, এখনও করছে মানুষ স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য বনে জঙ্গলে, পাহাড়ে, গুহায় এরকম নিভৃত স’ানে গিয়ে ধ্যানস’ হত বর্তমানে মানুষ নিজের প্রয়োজনে মেডিটেশনকে ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছে বিজ্ঞান আমাদেরকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে এখন আর বনে জঙ্গলে যেতে হয় না, নিজের ঘরে বসেই একজন মানুষ মেডিটেশন চর্চা করতে পারে যে কারণে সারা বিশ্বে মেডিটেশন এত জনপ্রিয় মনে রাখতে হবে যে মেডিটেশন পাশ্চাত্যের কোনো বিষয় নয়, এটি প্রাচ্যের এদেশে সুফি সাধকেরাই এর গোড়াপত্তন করে গেছেন আমরা এখনতাকে নিজের জীবনে প্রয়োগ করছি মাত্র

মেডিটেশন আসলে এক প্রকার মানসিক ব্যায়াম
সবশেষে মেডিটেশন সম্পর্কে এভাবেই বলা যায় যে
মেডিটেশন হচ্ছে মনের বিশেষ এক অবস’া, যে অবস’ায় মনের শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এই বর্ধিত শক্তি নিজের এবং অপরের কল্যাণে ব্যবহার করে জীবনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়া যায়

Meditation Ebook


Meditation Audio

History of Meditation